রবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে রঙিন ফুলকপি

প্রতিবেদক
krishokbarta
মার্চ ২৯, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ণ

IMG 20260329 223050নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে রঙিন ফুলকপি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের নারী কৃষি উদ্যোক্তা সালেহা বেগম। চাষাবাদে তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় ও বাজারে সাদা ফুলকপির চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি। অধিক লাভ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

সাদার চেয়ে রঙিন ফুলকপির পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও সুন্দর। শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এ ফুলকপি চাষ করা যায়। আর তাতেই সাড়া ফেলেছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের নারী কৃষি উদ্যোক্তা সালেহা বেগম।

অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহারের ফলে ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে এমন অভিমত সালেহার। বিশেষ করে হলুদ জাতের ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ নামের ফুলকপির চাহিদা বেশি। উপকূলীয় এ উপজেলা প্রথমবারের মতো ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ ও ব্রকলি চাষ হয়েছে। যা মানুষকে আকৃষ্ট করছে। কম উৎপাদন খরচ এবং বেশি লাভের কারণে রঙিন ফুলকপি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন ওই নারী উদ্যোক্তা। তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ ও ব্রকলিসহ রঙিন সব ফুল কপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় ৩৩ শতাংশ জমিতে ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ ও ব্রকলিসহ রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ করেন সুলতান সরদারের স্ত্রী নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম।

সালেহা জানান, অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। দশমিনায় তিনিই প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ করেছেন। এ বছর তিনি হলুদ,সবুজ,বাসন্তি, বেগুনি,গোলাপি ও সাদা রঙের ফুল কপির চাষাবাদ করেছেন। রঙিন ফুলকপি থেকে লাভ তাকে আরও বেশি করে এ ধরনের চাষে উৎসাহিত করেছে। বাজারে রঙিন ফুলকপির প্রচুর চাহিদা ও চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে। অল্প জমিতে কম পরিমাণ চাষাবাদ করেও অধিক টাকা আয়ের কথা জানিয়েছেন।

সেখানকার কৃষকদের চাষাবাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে জানান, আমাদের গ্রামের আর কোথাও এই জাতের ফুলকপি চাষাবাদ হয়নি। সালেহা বেগম প্রথম চাষাবাদ করেছেন। লোকমুখে শুনে দেখতে এসেছি। এতদিন সাদা ফুলকপি দেখলেও এই প্রথম বেগুনি রঙের দেখলাম। দেখতে যেমন সুন্দর লাগছে, এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নাকি বেশি। বাজারে সাদা ফুলকপির চেয়ে দাম এবং চাহিদাও বেশি। এ কারণে চাষ লাভজনক। তাই সালেহা বেগম কাছ থেকে পরামর্শ নিলাম কীভাবে লাগিয়েছেন, কোথায় বীজ পেয়েছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামীতে আমিও চাষ করবো।’

একই গ্রামের কৃষক মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুনি রঙের ফুলকপি দেখতে এবং পরামর্শ নিতে এসেছি। বেশ সাড়া ফেলেছেন কৃষক সালেহা বেগম। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন। আগামীতে এই রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ করবো। এজন্য আপার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, রঙিন ফুলকপি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন ও লাভজনক ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ ধরনের ফুলকপি ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ নামে পরিচিত। প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনায় বেশি বিটা-ক্যারোটিন ধারণ করে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। ফলে কৃষকের স্বল্প সময়ে ভালো লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ ধরনের চাষাবাদে আগ্রহী করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - নগরায়ন