মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ ২০২৬ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

সৌর বিদ্যুতের কারণে হরমুজ প্রণালীর ধাক্কা নেই পাকিস্তানে, বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা

প্রতিবেদক
krishokbarta
মার্চ ১৭, ২০২৬ ২:৪৯ অপরাহ্ণ

IMG 20260317 203158 1হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার অস্থির। এসময় পাকিস্তানের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুত সক্ষমতা দেশটিকে বড় জ্বালানি ধাক্কা থেকে রক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির চাপে থাকা বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সৌরবিদ্যুতের কারণে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তান তেল ও গ্যাস আমদানিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় কমিয়েছে। বর্তমান দামের ধারা অব্যাহত থাকলে বছরের শেষে আরও ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।

এই সাশ্রয় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ—ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ঝুঁকির মুখে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হগ। এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে আমদানিনির্ভর এশীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে।

কিন্তু একই সময় এই ঝুঁকিতে থাকা পাকিস্তান এখন অনেকটাই প্রস্তুত। দেশজুড়ে বাড়ি, খামার ও কারখানায় ছড়িয়ে পড়েছে ছাদভিত্তিক সৌর প্যানেল। ফলে তেল ও এলএনজির চাহিদা কমেছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তির শর্ত নতুন করে ঠিক করছে, এমনকি কিছু জ্বালানি বিদেশে বিক্রিও করছে।

রিনিউএবলস ফার্স্টের কর্মকর্তা রাবিয়া বাবর বলেন, ‘পাকিস্তানের সৌর বিপ্লব কোনো বড় সরকারি পরিকল্পনা থেকে নয়, সাধারণ মানুষের উদ্যোগে হয়েছে। এখন এই সৌর বিদ্যুৎই জ্বালানি নিরাপত্তার বড় ভরসা হয়ে উঠছে।’

সিআরইএ-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা লরি মাইলিভির্তা বলেন, ”এই সৌর বিস্তার তেল ও এলএনজির দামের ধাক্কার বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘বীমা’ হিসেবে কাজ করছে।”

পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার হয়েছে মূলত ভোক্তাদের উদ্যোগে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সৌর প্যানেল আমদানিতে শূন্য শুল্ক ছিল। এর সঙ্গে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে চীনে, প্যানেলের দাম কমে যাওয়ায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসানো গ্রিড বিদ্যুতের চেয়েও সস্তা হয়ে পড়ে।
এর প্রভাব দ্রুত দেখা যায়। ২০১৮ সালে যেখানে আমদানি ছিল ১ গিগাওয়াটেরও কম, ২০২৬ সালের শুরুতে তা ৫১ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির তেল ও গ্যাস আমদানি ৪০ শতাংশ কমেছে।
এতে অর্থনীতিতেও স্বস্তি এসেছে। জ্বালানি আমদানি কমায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল হয়েছে।

পাকিস্তানের এই চিত্র এশিয়ার অনেক দেশের থেকে আলাদা। চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জ্বালানির বড় অংশই এশিয়ায় আসে। তাই এই পথে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর।

বাংলাদেশেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে দামের পরিবর্তন সরাসরি বিদ্যুতের খরচ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সাশ্রয়ী দামে এলএনজি সংগ্রহেও সমস্যায় পড়েছে সরকার। স্পট মার্কেট থেকে কেনা কমাতে হয়েছে, কখনো বেশি দামে বিকল্প নিতে হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে কোনো বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
এই অবস্থায় পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা একটি ভিন্ন পথ দেখাচ্ছে।
CREA বলছে, ছাদভিত্তিক ও বিতরণভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এতে জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়ে। বাংলাদেশে সূর্যালোকের অভাব নেই, কিন্তু ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার এখনো সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এই খাতটি বাড়ানো গেলে এলএনজি আমদানি কমানো, বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পিক সময়ে লোডশেডিংয়ের সমস্যাও কমবে।

সামনের পথ:
বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুতের খরচ কমছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন অনেক দেশের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎস হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতিটি গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ আসলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার বিরুদ্ধে এক ধরনের সুরক্ষা। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এর সুফল পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য বার্তাটি পরিষ্কার—জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ - নগরায়ন

আপনার জন্য নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে বীজ আলুর দর পুনঃনির্ধারণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাতে ভূট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের ভাগ্য বদল

রমজানের আগেই তেল, মুরগি ও চালের দামে ঊর্ধ্বগতি; স্থিতিশীল সবজির বাজার

দাম বেড়েছে সবজির, স্বস্তি নেই গোশতের বাজারেও

‘চারে নামতে পারে’ তাপমাত্রা, কাল থেকে শীত বাড়ার আভাস

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু করলেন পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু

সৌর বিদ্যুতের কারণে হরমুজ প্রণালীর ধাক্কা নেই পাকিস্তানে, বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা

বাগবাটিতে জমে উঠেছে জলপাইয়ের হাট, দিনে বিক্রি ৪ লাখ টাকা

টবে ফুল গাছ রোপণের নিয়ম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অনেক অগ্রগতি তুলে ধরলেন ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অনেক অগ্রগতি তুলে ধরলেন ফরিদা আখতার