এক মাসের ব্যবধানে সোনালি জাতের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১৪০ টাকা, বাজারে বোতলজাত সয়াবিন মিলছে না। এছাড়া ঊর্ধ্বমুখী সবজির বাজার। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য শ্রেণির ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় বার্ড ফ্লুর প্রকোপ বেড়েছে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সোনালি মুরগি। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তারা জানান, পাইকারি বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে অনেক দোকানে মুরগি বিক্রি আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতাবাজার, নারিন্দা বাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম খুব বেশি না বাড়লেও ঈদের পর থেকে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি ও দেশি মুরগি। প্রতি কেজি ব্রয়লার ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, সোনালি মুরগি ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের তথ্য মতে, অন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম ঠিক থাকলেও প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম ১৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা ছিল। এছাড়া দেশি মুরগির দাম আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, যা ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি প্রতি কেজিতে।
ব্যাবসায়ীদের ভাষ্যমতে, পোলট্রি ফিড (খাবার) এবং ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক প্রান্তিক খামারি লোকসান সইতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তাছাড়া বড় বড় কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এদিকে বেড়েছে ডিমের দামও, রমজানে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডিমের দাম ছিল সর্বনিম্ন। ওই সময় ডজন বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১১০ টাকায়। এখন ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। আর সাদা ডিমের ডজন ১১০ টাকা। ডিম ব্যাবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।
শুক্রবার ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিললেও সরবরাহ কম। আধা লিটার, এক ও দুই লিটারের বোতল বেশিরভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন তেল মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে।
এখন সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা। অন্যদিকে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা ও পাম তেলের নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর পাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা মাসখানেকের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চারদিন ধরে একেবারে অর্ডার নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বেশিরভাগ সবজিই এখন ৮০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু আলুর কেজি ২৫ আর পেঁপে-গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও কাকরোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে কম রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
















