মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ ২০২৬ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

জলবায়ু ফান্ড ব্যবহারে জবাবদিহিতা জরুরি, সঠিক ব্যবস্থাপনার তাগিদ

প্রতিবেদক
krishokbarta
মার্চ ৩১, ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

IMG 20260126 WA0005আলমগীর হোসেন: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে গঠিত তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তহবিলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত না হলে জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষতি আরও বাড়বে।

জলবায়ু ফান্ডের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদান। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই অর্থ যথাযথ পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে প্রত্যাশিত খাতে ব্যয় হচ্ছে না। ফলে প্রকৃত প্রয়োজনীয় খাতগুলো—যেমন উপকূলীয় সুরক্ষা, কৃষি অভিযোজন, পানি ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি—প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের মতে, জলবায়ু তহবিল ব্যবহারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি। অনেক প্রকল্পে ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয় না, আবার কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আটকে থাকে। এর ফলে অর্থের কার্যকারিতা কমে যায় এবং বাস্তব উপকারভোগীরা সময়মতো সুবিধা পান না।

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের অভাবও একটি বড় সমস্যা। একাধিক সংস্থা জড়িত থাকায় দায়িত্ব বণ্টন ও নজরদারিতে অস্পষ্টতা তৈরি হয়। ফলে কোথায় কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং তার প্রভাব কতটা—সেসব বিষয় নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে United States, China এবং European Unionসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও অগ্রগতির ওপর কঠোর নজরদারি না থাকলে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে এই তহবিলের গুরুত্ব আরও বেশি। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘনঘন বন্যা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপপ্রবাহের মতো সমস্যাগুলো মোকাবেলায় কার্যকর বিনিয়োগ অপরিহার্য। কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থ যদি নির্ধারিত খাতে সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, জলবায়ু ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—স্বচ্ছ রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা, নিয়মিত স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করা, প্রকল্প নির্বাচন ও অনুমোদনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং তদারকি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রক্রিয়া। তাই তহবিল ব্যবহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর নজরদারি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু ফান্ডের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সর্বশেষ - নগরায়ন