Monday , 16 March 2026 | [bangla_date]
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

শীতকালীন সবজিতে ভরপুর বাজার, ‘স্বস্তিতে’ ক্রেতা

প্রতিবেদক
krishokbarta
March 16, 2026 7:23 am

IMG 20260123 WA0002নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা ‘স্বস্তির’ দেখা মিলেছে। শীতের শেষ সময়ে সবজির বাজার স্থিতিশীল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা। খুচরা বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে পেঁয়াজের দাম কমায় সাধারণ ক্রেতারা ‘স্বস্তির’ খবর বলে মনে করছেন। ক্রেতারা মনে করছেন, আবহাওয়া ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনে কয়েক সপ্তাহ সবজির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাবে না। তবে, কাঁচামরিচের দাম কিছুটা ওঠানামা করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া যায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি না থাকায় দামের হেরফের হয়নি। যদিও আগামী সপ্তাহ থেকে দাম বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী আলম জানান, মাঠে ভরপুর শীতের সবজি। তাই শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমছে। পাইকারি বাজারেও দর কমেছে, তাই আমরা কম দামে বিক্রি করছি। টাউনহল বাজারে আসা ক্রেতা সোবহান হক বলেন, ‘শীত আসছে, তাই সবজির দাম কমছে। আশা করি, সামনে আরও কমবে। শীতের সময় আমরা ইচ্ছামতো সবজি খেতে পারি। তবে বাজার সঠিকভাবে তদারকি করলে দাম আরও কমানো সম্ভব।’
টাউন হল বাজারে আসা জসিম উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে সবজি কমে আসছে। দাম আরেকটু কমলে ভালো হতো। তবে যেরকম আছে তাও অনেকটা স্বস্তির।’
মো. মাসুদ রানা নামে একজন বলেন, ‘শীতের শেষ সময় চলছে। এখন পর্যন্ত সরবরাহ ঠিক থাকায় দাম স্থিতিশীল। তবে হয়তো আগামী সপ্তাহে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।’
কারওয়ান বাজারের আড়তে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস বাজারে এলেই চাপ অনুভব করতাম। এখন বেশিরভাগ সবজি ৫০-৬০ টাকার মধ্যে থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। পেঁয়াজের দামও আগের চেয়ে কম, রান্নায় সুবিধা হচ্ছে।’
মিরপুরের গৃহিণী নাসরিন আক্তারের সাথে টেলিফোনে কথা বলে জানা যায়, ‘সবজির দাম একেবারে কম না হলেও সহনীয় পর্যায়ে আছে। এমন অবস্থা থাকলে মাসের বাজার খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এখন শীতের মৌসুম, সবজির বসন্তকাল। বেশির ভাগ সবজি এ শীতেই উৎপাদন হয়। ফলে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে এই স্থিতিশীলতা এসেছে। তারা আরও জানান, এখন দেশি সবজির সরবরাহ ভালো। ট্রাক ঠিকমতো আসছে, তাই দাম বেশি বাড়াতে হচ্ছে না।
শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে সবজির দামে স্বস্তি থাকলেও মাংসের বাজারে বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
রাজধানীর শ্যামলী ও টাউনহল বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজির দরদাম বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে টমেটো ও গাজরের দাম; এ দুটি পণ্য কেজিতে ৪০ টাকা কমে যথাক্রমে ৬০-৮০ টাকা এবং ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা এবং লাউ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি ও ঢেঁড়স ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বেগুন, করলা ও ধুন্দলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা কমে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় মিলছে।
শাকসবজি ও আলু-পেঁয়াজের বাজার শাকের বাজারে লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা এবং পালং ও কলমিশাক দুই আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলুর দাম কমে কেজি প্রতি ৩০ টাকা এবং পুরোনো আলু ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পেঁয়াজের বাজারেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে; দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ১৩০ টাকা হলেও নতুন পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ক্যাপসিকামের দাম কেজিতে ১০০ টাকা কমে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় নেমে এসেছে।
মুরগি ও মাংসের বাজার পরিস্থিতি সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও মুরগির বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে সোনালি কক মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি আগের মতোই চড়া দামে ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৬০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা দরে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে লাল ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
মাছ ও নিত্যপণ্যের অবস্থা মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১০০০ টাকা এবং রুই মাছ আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৭০-২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি শিং বা মাগুর মাছের দাম এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে (৮০০-১২০০ টাকা)। নিত্যপণ্যের মধ্যে দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা এবং দেশি আদা ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও মাংস ও মাছের দাম আরও কমা প্রয়োজন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি না হলে এই স্বস্তি আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তারা বলছেন, পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা ও বাজার তদারকি জোরদার করলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব।

সর্বশেষ - পর্যটন