Monday , 16 March 2026 | [bangla_date]
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

‘ভূমিকম্প মোকাবেলায় বাংলাদেশ অপ্রস্তুত’ – Agri Sangbad

প্রতিবেদক
krishokbarta
March 16, 2026 7:31 am

IMG 20260114 WA0004বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্প ঝুকিতে রয়েছে। কিন্ত ভূমিকম্প মোকাবেলায় বাংলাদেশ একেবারেই অপ্রস্তুত, বলে জনিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছে, ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করে বহুতল ভবন নির্মান, গ্লাস বিল্ডিং তৈরী, অধিক ঘনবসতি, পানির লেয়ার কমে যাওয়া, ভবনে বিকল্প বর্হিগমণ পথ না থাকা, নরম পলিমাটিতে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ, দুর্নীতি, মানুষের ভূমিকম্প সম্পর্কে অসচেতনতা, কু সংস্কার ইত্যাদি বিষয়সমূহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে।
বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ বিষয়টি উঠে আসে। এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ(এডাব) এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এডাব-এর চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে ধারনাপত্র উপস্থাপন করেন ক্যাপস এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং ভূমিকম্পের কারিগরী বিষয়সমূহের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ এর সাবেক পরিচালক অপারেশন মেজর (অব:) শাকিল নেওয়াজ।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ভূমিকম্প হলে গ্রামের চেয়ে শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। ঢাকা শহরে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষের অধিক ভবন ধ্বসে পড়বে, তিন ভাগের দুইভাগ লোক মারা যেতে পারে। মরদেহ সরাতে, আহতদের হাসপাতালে নিতে, উদ্ধারকার্য সম্পাদনের জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল। হাসপাতালে ডাক্তার, রোগীসহ সবাই মারা যেতে পারে। গ্যাস, পানির লাইন ফেটে যাবে, বিদ্যুৎ লাইন, কমিউনিকেশন লাইন কাজ করবে না। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়বে, অগ্নিকান্ড সংঘটিত হতে পারে, ভবন ধ্বসে রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হবে, ভবন দেবে যেতে পারে। ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধার কর্মী আসতে পারবে না। আগুণ নিভানোর পানি পাওয়া যাবে না।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ভূমিকম্পের আগে, ভূমিকম্পের সময়ে এবং ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত পারিবারিক, কমিউনিটি, অঞ্চালিক, রাস্ট্রীয় জরুরি পরিকল্পনা তৈরী করে সমন্বিতভাবে কমিউনিটি, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সরকার, প্রশাসন কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
গত বছরের নভেম্বর মাসে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তাদের নিজেদের করা একটি সমীক্ষায় উল্লেখ করেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট বা ফাটলরেখায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা আছে।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স (বিআইপি); ওয়াহিদা বানু, নির্বাহী পরিচালক, অপরাজেয় বাংলাদেশ এবং মানবাধিকার ও সমাজকর্মী; গওহর নাঈম ওয়ারা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, ডিজাস্টার ফোরাম (ডিএফ); ড. মোঃ খালেকুজ্জামান, অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ বিজ্ঞান, কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিল্ভানিয়া, ইউএসএ।

সর্বশেষ - কৃষি সংবাদ