Monday , 16 March 2026 | [bangla_date]
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিবেদক
krishokbarta
March 16, 2026 8:45 am

[

IMG 20260121 235228নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে দেড়শ একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই কামারপাড়া গ্রামে গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি ঢোকার কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়েছে।

খরিপ-১ মৌসুমে পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত দিনাজপুরগামী প্রধান ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর আবাদি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বোরো বীজতলা, সরিষা, আলু, ভুট্টা ও বিভিন্ন রবি শস্য সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার শতাধিক কৃষক পরিবার।

গত সোমবার দুপুরে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দিনাজপুরগামী তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রধান ক্যানেলের ডান তীরের বাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ২৫ ফুট অংশ ধসে পড়লে ক্যানেলের প্রবল পানির স্রোত আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠঘাট পানির নিচে চলে যায়।

চলতি বোরো মৌসুমে খরিপ-১ এর সেচ কার্যক্রম শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি থেকে। তিস্তা কমান্ড এলাকার কৃষকরা বোরো চারা রোপণ ও অন্যান্য ফসলে সেচ দিতে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক এই সময় আকস্মিকভাবে ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে পড়ায় কৃষকদের কয়েক মাসের পরিশ্রম মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আ. জব্বার বলেন, অনেক টাকা খরচ করে বোরো চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। হঠাৎ দুপুরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে আমার জমিসহ আশপাশের সব জমির ফসল শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।

আরেক কৃষক সামছুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বারবার বলার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে একই দুর্ভোগ আবার ফিরে এলো।

কৃষক আফতাব উদ্দিন বলেন, ২০১৫ ও ২০২৪ সালে দুবার তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেসময় আমরা ক্ষতিপূরণের দাবি করলেও কিছু পাইনি। এবারও একই অবস্থা হলো। এর দায় কে নেবে?

ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কৃষকরা:

নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মাহামুদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। কৃষকরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন, জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যতে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তা সেচ প্রকল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্যানেলের বাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাটির বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি কয়েক বছর পরপর বাঁধ ভেঙে একই এলাকায় ফসল ও জীবিকার ওপর ভয়াবহ আঘাত আসছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ জরিপ না করা হলে প্রকৃত ক্ষতির চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে। এতে কৃষকরা সরকারি ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কংক্রিট ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ - কৃষি সংবাদ