Monday , 16 March 2026 | [bangla_date]
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

টবে ফুল গাছ রোপণের নিয়ম

প্রতিবেদক
krishokbarta
March 16, 2026 7:24 am

flower plantপৃথিবীতে ফুলের মতো সুন্দর আর পবিত্র কোনো কিছু নেই। কিন্তু সেই সুন্দরকে কাছে রেখে উপভোগ করার সৌভাগ্য কয়জনের হয়? বিশেষ করে আমরা যারা শহরে থাকি তাদের তো ফুলগাছ লাগানোর জমিই নেই। বিল্ডিংয়ের ছাদ, বারান্দা, না হয় সিঁড়িঘরটাই ভরসা। সেখানে তো আর মাটি নেই। মাটি ছাড়া ফুলগাছ কেমন করে হবে? তাই পোড়ামাটির টবে কাঁচা মাটি রেখে তার ভেতর দুই-চারটা ফুলগাছ লাগিয়ে সে আনন্দ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মুশকিল হলো, সব ফুলের গাছ আবার টবে ভালো হয় না। বিশেষ করে বৃক্ষজাতীয় দীর্ঘজীবী ফুলগুলো টবে বেশি না লাগানোই ভালো। বিভিন্ন মৌসুমি ফুল টবের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে যে ফুলগাছই লাগানো হোক না কেন সেগুলো যেন রোদ পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটু হিসাব করে পরিকল্পনামতো টবে ফুলগাছ লাগালে সারা বছরই কিছু না কিছু ফুলের দেখা পাবেন।

চারদিকে ফুলের খুব কদর এখন। বিভিন্ন দিবস এবং উৎসবে অনেক ফুল দরকার হয়। তাই ভবনের ছাদ, আঙিনা, বারান্দা বা সিঁড়িঘরেই রোপণ করা যায় ফুল গাছ। আপনার জায়গা অনুযায়ী কিছু ফুল গাছ লাগানো যেতেই পারে। তবে জেনে রাখা জরুরি, সব ফুলের গাছ কিন্তু টবে খুব ভালো হয় না।

জেনে নিন টবে চাষের উপযোগী ফুল গাছ কোনগুলো:

টবে ফুল গাছ
বিভিন্ন মৌসুমে নানান রকম ফুল গাছ রোপণ করা যায়। তাই মৌসুম অনুযায়ী ফুল গাছ নির্বাচন করতে হবে।

গ্রীষ্মকাল
এ সময়ে গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, সূর্যমুখী, জিনিয়া, পিটুনিয়া, মোরগঝুঁটি, দোপাটি, মণিকুন্তলা, বিচিত্রা ইত্যাদি চাষ করা যায়।

বর্ষাকাল
বর্ষায় ভালো হবে হাইড্রেঞ্জিয়া, বেলি, জুঁই, চাঁপা, পত্রলেখা, তুষারমোতি, দোপাটি, জিনিয়া, সূর্যমুখী (ছোট), স্থলপদ্ম, মালতীলতা প্রভৃতি।

শীতকাল
শীতে গাঁদা, গোলাপ, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, পিটুনিয়া, ভারবেনা, ক্যামেলিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কারনেশন, স্যালভিয়া, গোলাপ, জারবেরা, এজালিয়া ইত্যাদি।

সারাবছর
এর বাইরে সারাবছর কাঞ্চন (সাদা), জবা, কামিনী, করবী, অলকানন্দা, জয়তী, হাজারপুটিয়া, নয়নতারা, সন্ধ্যামালতী বা সন্ধ্যামণি ইত্যাদি।

দীর্ঘস্থায়ী ফুল গাছ
বেলি, জুঁই, বাগানবিলাস, গোলাপ, জবা, করবী, গন্ধরাজ, কাঞ্চন, কুন্দ, চাঁপা, মুসেন্ডা, কামিনী, অ্যালামন্ডা, স্থলপদ্ম, পোর্টল্যান্ডিয়া, ব্রানফেলসিয়া, ক্যামেলিয়া, টগর, শিউলি, পয়েনসেটিয়া প্রভৃতি দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে রোপণ করা যায়।

রোপণের নিয়ম
প্রথমে গাছের সঙ্গে মানানসই আকারের টব সংগ্রহ করতে হবে। ছোট গাছের জন্য বড় টব হলে ক্ষতি নেই কিন্তু বড় গাছের জন্য ছোট টব উপযুক্ত নয়। প্রতিটি টবের জন্য দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের একভাগ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে একমুঠো হাড়ের গুঁড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দুমুঠো ছাই মেশালে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকে।

পরিচর্যা
মৌসুমি ফুলের ক্ষেত্রে মাসখানেক বয়সের ফুলের চারা টবে রোপণ করা উচিত। অন্য চারার বেলায় অল্পবয়সী ভালো ও তরতাজা, গাট্টাগোট্টা দেখে চারা বা কলম লাগানো ভালো। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে। লাগানোর পর গোড়ায় পানি দিতে হবে। গাছকে খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। গাছের চারা অবস্থা থেকেই এ ব্যবস্থা করতে হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা যেতে পারে।

সদ্য লাগানো ফুলের চারা কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে নিতে হয়। এ অবস্থায় সকালে ও বিকেলে রোদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচে দেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। কাজটি প্রতি ১০ দিনে একবার করে করতে হবে।

সার
কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেওয়া যাবে না। রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে। যেন সার কোনোভাবেই শেকড়ের ওপর না পড়ে। ট্যাবলেট সার দিলে এসব সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সর্বশেষ - পশুপালন ও মৎস্য