[
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে কৃষিখাতকে জাতীয় সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তর কৃষক কার্ড-ঋণ মওকুফ-নিরাপদ খাদ্যের প্রতিশ্রুতি দিলো বিএনপি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ কন্ট্রোল অথরিটি’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনঃ বাস্তবায়ন এবং মৎস্যখাতে ‘জাল যার জলা তার’ নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও রাখা হয়েছে।
দলটির ইশতেহারে কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার কার্ড’ প্রবর্তন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং ক্ষুদ্র ঋণের এক বছরের কিস্তি সরকার কর্তৃক পরিশোধের ঘোষণা রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণাকালে এসব কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু, আম সংরক্ষণে হিমাগার, খাল খনন, কৃষি বিমা, ফসলের ন্যায্যমূল্য ও কৃষিজমি সুরক্ষা, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রফতানি অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন ও গবেষণা, এগ্রোপ্রেনারশিপ স্টার্টআপ চালু করা হবে। সমবায় পুনরুজ্জীবন এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়াও প্রাণীসম্পদ উন্নয়নে নিরাপদ ফিড উৎপাদন, ভ্যাক্সিন প্ল্যান্ট স্থাপন, পোল্ট্রি, মাংস ও ডেইরি শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নীতি সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু-রোগ প্রতিষেধক ওষুধের যোগান নিশ্চিত করা এবং পশু-রোগ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। মৎস্য খাত উন্নয়নে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে এগুলো ‘জাল যার জলা তার’ এই নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জেলেদের মৎস্য আহরণের নিষিদ্ধ মৌসুমে বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তা জোরদার করা হবে। উন্নত মাছের প্রজাতি উদ্ভাবন, মানসম্মত ফিড উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভেজাল প্রতিরোধ, নিরাপদ ফসল উৎপাদন, মনিটরিং জোরদার করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। খাদ্য আমদানিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা হবে।
কৃষক কার্ড ও কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা:
বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ পাওয়া যাবে। তাছাড়া, কৃষক কার্ড দিয়ে মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, মোবাইলে ফসলের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে।
মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি, কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সহায়তা পাবেন।
এ ছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডাটাবেজ গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ: ইশতেহারে বলা হয়েছে, সার, বীজ, তেল, বিদ্যুৎ, সেচের পানিসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েই চলছে। কিন্তু খেটে খাওয়া কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রের দাম ফ্যাসিস্ট আমল থেকে দ্রুত বেড়েই চলেছে। জনজীবনে কোনো স্বস্তি নেই। জনগণের সরকার হিসাবে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে গৃহীত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

















