Monday , 16 March 2026 | [bangla_date]
  1. কৃষি পরামর্শ
  2. কৃষি সংবাদ
  3. জলবায়ু ও পরিবেশ
  4. নগরায়ন
  5. পর্যটন
  6. পশুপালন ও মৎস্য
  7. বিশেষ প্রতিবেদন

ইরান সংঘাত: ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসীরা

প্রতিবেদক
krishokbarta
March 16, 2026 7:35 am

[

IMG 20260303 014513শাফিউল আল ইমরান: ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের চালানো হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শনিবার ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইসরায়েল। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এতে অঞ্চলটিতে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ওই দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হবে। অর্থনীতিবিদ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতি বহুমুখী ক্ষতির মুখে পড়বে। সেইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমবে। এতে দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার শঙ্কায় থাকবে।

আরব আমিরাতের দুবাইয়ের শহরে থাকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জের পলাশ প্রধান। সেখানকার নুন ফুড নামের একটি ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার এই শহরে গতকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় রকেট এসে পড়ছে। তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়েনি, কিন্তু এখানকার মানুষের মনে আতঙ্ক। আজ আমার কোম্পানির খাবারে অর্ডার কমে গেছে। আমিও আজ বাসা থেকে বাইরে বের হইনি। এমন চললে অন্যান্য দিনের অর্ধেকও ডেলিভারি পাব না। বাসায় বসে থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজ আমি ভয়ে বাসা থেকে বের হইনি।’
কাতারের রাজধানী দোহায় ‘ঘরোয়া’ নামের একটি বাংলা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী বেলায়াত হোসেন আরজু। তিনি বলেন, ‘এই শহরে বাংলা খাবারের প্রসিদ্ধ খাবার ঘরোয়া। এখানে প্রচুর পরিমাণ দেশি-বেদেশি অতিথি খাবার খেতে আসেন কিন্তু চলমান অবস্থার কারণে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে গেছে।’
দোহায় আমরা যারা বাংলাদেশি আছি তারা নিরাপদে ও সাবধানে আছি। শহরটিতে ইরান থেকে শুধু মার্কিন বেজ লক্ষ্য করে থেমে থেমে রকেট হামলা চলানো হচ্ছে, বলেও জানান তিনি।

শুধু পলাশ প্রধান বা বেলায়াত হোসেন আরজুই নন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা নানান আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

তবে, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুদিনের মধ্যেই শান্ত হয়ে যাবে বলে মনে করেন অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষক আসিফ মুনীর। তিনি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধটা কয়েকদিন চলেবে। তবে, ডোনাল্ড ট্যাম্পের একটা কৌশল আছে, যেটা হার্ড লাইনে কোনো কোনো সময় নেগোশিয়েট করা। ট্রাম্প ইরানকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার ও ব্লাস্টিক মিসাইলের ব্যাপারে চাপ দিচ্ছিলো, সেটা যদি মেনে নেয় তবে, এখন তেহরান যেখানে আমরিকান ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করছে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে আর পরিস্থিতিও শান্ত হবে।’
তবে, ইরানের ভিতরের কন্ট্রোলটা ধরে রাখতে গেলে তাদের বোঝাতে যে, তাদেরও কিছু করার ক্ষমতা আছে। তাই মনে হচ্ছে যে, এটার ধারাবাহিকতা খুব বেশি দিন চলবে না। আমার মনে হয়, ইরানের যেটুকু আছে দুই-তিন দিন যুদ্ধ করবে তারপর পরিস্থিতি শান্ত হবে, বলে মত তার।

তিনি আরও বলেন, ‘তেহরান যে যে দেশে আক্রমণ করছে সেসব জায়গায় প্রচুর বাংলাদেশি আছে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বসছে এবং আমাদের অ্যাম্বেসিগুলোতে নির্দেশনা দিচ্ছে যাতে বাংলাদেশিরা কোনো কারণে আতঙ্কিত না হয়। এখন দুবাই, ওমান, কাতারে বোমা পড়ছে এজন্য ওসব দেশে থাকা বাংলাদেশিদের সাবধানে থাকতে হবে। তবে, আশার কথা হলো; একটা ভালো জায়গা যে; যেখানে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি আছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে, সেখানে বড় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

শঙ্কার কথা: যেসব প্রবাসী পার্মানেন্ট কাজ করেন না সেসব প্রবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির প্রসীদের নিয়ে নানা ‘আশঙ্কার’ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে আমাদের জনশক্তি আছে। এখন যদি ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে, নিরাপত্তার কারণে তাদের ফিরিয়ে আনতে হতে পারে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আছে সেখানে হামলা চালিয়েছে। এটা কতদিন চলবে, সেটাও কেউ জানে না। সবমিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিই এখন হুমকিতে।

রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, এক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও করতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকরাও বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, ‘তারা বড় রকমের অস্থিরতার মধ্যে আছে। কখন কোথায় আক্রমণ হবে তা বলা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি সৌদি আরব। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনÑ এরা সবাই হুমকির মধ্যে আছে।’

আসিফ মুনীর বলেন, ‘যেসব বাংলাদেশি নিয়মিত চাকরিতে নেই বা ফরমাল কন্ট্রাকে কাজ করে না তাদের একটু সাবধানে কাজ করতে হবে; যদি আমার কাজ না থাকে তাহলে দেশের বাড়িতে টাকা পাঠাবো কি করে বা আমার যদি টাকা পাঠাতে হয় কীভাবে টাকা পাঠাবো। ’
তার মতে, এই যুদ্ধটা অল্প কয়েকদিন চলতে পারে এক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।IMG 20260303 014451

তিনি বলেন, ‘এখন তো যেসব বাংলাদেশি ফরমাল চ্যানেলে টাকা পাঠায় না হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠায় সেখানে কোনো সমস্যা হবে না। তবে, তাদের আয়ের বা কাজের জায়গাগুলোতে চাপ পড়ে তবে সেটার একটা চাপ কয়েক মাস পড়তে পারে। সেটা তুলনামূলকভাবে যেসব জায়গায় হামলা বেশি সেসব জায়গায় বেশি আর যেসব জায়গায় হামলা কম সেসব জায়গায় তেমন চাপ হবে না।’

তবে, এই হামলাটা কারণে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মাহফুজ কবীর। তার মতে, বাংলাদেশ ফরেন কারেন্সি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল দেশ হওয়ায় এখানে ঝুঁকিটা বেশি।
সংশিষ্টদের আশা; বাংলাদেশিরা আয় করতে না পারলেও যেন ধৈর্যশীল থাকে। তারা রেমিট্যান্স পাঠাতে না পারলেও যে যে দেশে থাকে সেখানে যেন সাবধানে ও নিরাপদে থাকে।

সর্বশেষ - কৃষি সংবাদ