দীর্ঘ কয়েক বছরের সংঘাত আর মহামারির স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালে আফ্রিকার পর্যটন মানচিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছে ইথুপিয়ার। ইথিওপিয়ানরা তাদের সংস্কৃতি, প্রাচীনতা এবং সমৃদ্ধির জন্য সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত।
ইথুপিয়ান ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতিগুলোর অন্যতম। এর বিভিন্ন দিক যেমন খাদ্য, সঙ্গীত, নাচ, সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় প্রথা এবং ভাষা, ইত্যাদির মাধ্যমে এটি প্রকাশ পায়। এর বিভিন্ন দিক বিশেষ করে খাদ্য, সঙ্গীত, নাচ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
ইথুপিয়ানরা বর্তমানে তার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতে এক অভাবনীয় নবজাগরণ এনেছে। যার ফলাফলে ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন ১৫শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রেক্ষিতে দেশটিকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
গত বছরের জুলাই মাসে দেশটির সরকার ‘ভিজিট ইথুপিয়া’ নামক একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এটি পর্যটকদের জন্য ওয়ান-স্টপ সল্যুশন হিসেবে কাজ করছে, যেখানে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে গাইড নির্বাচন সবই মিলছে এক ক্লিকে। নতুন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও উন্নত পরিষেবা পর্যটকদের মনে দেশটির নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে।
‘টিম্বাক্টু ট্রাভেল’-এর তথ্যমতে , গত এক বছরে দেশটিতে ভ্রমণের অনুসন্ধান বেড়েছে ৪০ শতাংশ। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এখন স্কুল গ্রুপ ও তরুণ অভিযাত্রীরাও ইথিওপিয়ার পাহাড় ও প্রাচীন ইতিহাসের দিকে ঝুঁকছেন।
ইথুপিয়া কেবল ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি মানব সভ্যতার আদি ইতিহাস আর অস্পৃশ্য প্রকৃতির এক ভাণ্ডার। ইতিহাস আর প্রকৃতি এখানে হাত ধরাধরি করে চলে।
পর্যটকদের জন্য দেশটির প্রধান কিছু আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে লালিবেলা ও আকসুম। উত্তর ইথুপিয়ার পাহাড় কেটে বানানো ১২শ শতাব্দীর প্রাচীন গির্জা ‘লালিবেলা’ ও আকসুম সাম্রাজ্যের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পর্যটকদের টাইম মেশিনে করে অতীতে নিয়ে যায়। সেইসঙ্গে ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত সিমিয়েন পর্বতমালা পর্বতমালায় দেখা মেলে বিরল ‘জেলাডা বানর’। বিশ্বের আর কোথাও এদের দেখা যায় না।
ইথুপিয়ান সমাজে আতিথেয়তা খুবই গুরত্বপূর্ণ। অতিথীদের প্রতি ভদ্রতা এবং তাদের স্বাগত জানানো এখানে একটা ট্র্যাডিশন। ইথুপিয়ান সংস্কৃতিতে অতিথিদের সম্মান জানানো এবং তাদের সেবা করা ইথিওপীয়দের কাছে একটি গৌরবজনক কাজ।
*ভিসা সহজ ও গ্রুপ ট্যুর চায়:
ট্যুর অপারেটরস ও ট্রাভেল এজেন্ট মালিকরা বলছেন, ভ্রমণকারীদের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভিসা সহজীকরণ, বিভিন্ন গ্রুপ ট্যুর প্যাকেজ দিলে ব্যাবসায়ীদের সুবিধা হবে। সেইসাথে এই দেয়াহে ইথুপিয়ান এয়ার লাইন্সটিরও ব্যবসা করতে সুবিধা হবে। তখন এই এয়ারলাইন্সটিও দেশে সফল ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।
ট্যাভেলার্স ডায়েরীর স্বতাধিকারী ওয়াহিদ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের যাত্রীদের নিকট ব্রাজিল, মিশরসহ আফ্রিকান কান্ট্রিগুলোতে ইথুপিয়ান এয়ারের ভ্রমণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এখন যদি ইথুপিয়ান এয়ার লাইন্সিআমাদের রুটগুলোতে অথনৈতিকভাবে ভালো প্রফিট করতে চায় তবে, বানিজ্যিক ফ্লাইটগুলো আরো তড়িৎ গতিতে দিতে হবে পাশাপাশি সেবার মান উন্নত করতে হবে। যদিও তাদের সেবার মান মোটামুটি সন্তোষজনক।’
তিনি আরোও বলেন, ‘আরেকটা বিষয় এসময়ে আফ্রিকান কান্ট্রিগুলোতে অফ বিটের ট্যুরিজম করার জন্য যাত্রীরা যাচ্ছে । সুতারাং অফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় সাফারী করা; যেমন কেনিয়া, রুয়ান্ডা, ইথুপিয়াসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রকার সাফারী করা। এ সব দেশে যেহেতু ট্যুরিষ্ট এট্রাক্টশন আছে, ট্যুরিষ্টরা যাচ্ছে তাই আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনেকরি ইথুপিয়ান এয়ারলাইন্সকে বাজারে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে গ্রহণযোগ প্রাইজ দিতে হবে তেমনি স্মুথলি ডিপাটচার ও এরাইভ্যালে কাজ করতে হবে।’
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ম্যানেজার (সংরক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ইথিওপিয়া একটি বৈচিত্র্যময় আফ্রিকান দেশ, যা তার প্রাচীন সংস্কৃতি, ওমো উপত্যকার উপজাতি, লালিবেলার পাথরে খোদাই করা গীর্জা এবং সিমিয়েন পর্বতমালার জন্য বিখ্যাত। উত্তর সার্কিট দেখার জন্য কমপক্ষে ১০-১৫ দিন সময় নিয়ে আকাশপথে ভ্রমণ সুবিধাজনক।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইথুপিয়ায় ভ্রমণের জন্য প্যাকেজের আওতায় অনেকগুলো ট্যুর প্যাকেজ চালু আছে। যারমধ্যে,হিস্টোরিক্যাল ট্যুর, কালচারাল ট্যুর, ইসকাশন ট্যুর, ন্যাচার এন্ড এডভেঞ্চার ট্যুর ও আদ্দিস ট্যুর, চালু আছে। আমরা বিভিন্নভাবে ভ্রমণ পিপাসুদের সহায়তা করে থাকি।’
বাংলাদেশে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন বলেন, ‘এয়ারলাইন্সটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বকে আরও কাছাকাছি আনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং একটি বিশাল বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের পছন্দ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, নতুন এই রুটটির মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী সংযোগ তৈরি করে দেওয়ার। আমরা বিভিন্ন দেশে হলিডে প্যাকেজ চালু করেছি।’
দেশটিতে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ। এসময় এটি শুষ্ক মৌসুম এবং ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তবে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পাহাড়গুলো বুনো ফুলে ছেয়ে থাকে এবং চারপাশ সবুজ থাকে।

















