
নুরুল আফছার, স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের পরিকল্পিত হামলায় এক সাংবাদিক মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। প্রতিবেশীকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে বাঁচাতে গিয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদ নিজেই চরমভাবে আক্রান্ত হন। স্থানীয় দৈনিক দেশের কথা-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ মাসুদের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেপথ্যে ছিল তার ধারণকৃত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য মুছে ফেলার হীন চেষ্টা।
প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে দুর্বৃত্তদের দাপট, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং প্রশাসনিক অপক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা যায়, গত ১৯ জুন রাত ৮টার পর চট্টগ্রামের বায়েজিদ পশ্চিম আ/এ এলাকার তায়্যেবা ভবনে সাংবাদিকের নিজ বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ধারাবাহিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে চালানো হয় নির্যাতন।
পুলিশের তদন্তে প্রাথমিকভাবে চারজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মো. জিহাদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগো পাড়া। সে বর্তমানে বায়েজিদ পশ্চিম আ/এ-তে বসবাস করছে। বাকি অভিযুক্তরা হলেন: নুরুল আবছার, সকিব, পারভেজ আহমেদ ও আরও ৬/৭ জন অজ্ঞাতনামা।
এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত নুরুল আবছার ও পারভেজ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও এখনো তাদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও গাফলতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাড়াঘর সংক্রান্ত তুচ্ছ বিষয় থেকে। অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে বাড়ির মালিক পক্ষের নারী প্রতিনিধিকে রাস্তায় চলাচলের পথে হুমকি-ধমকি ও মানহানিকর আচরণ করে এবং ৬ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে প্রতিবেশী সাংবাদিক এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের ফাঁদে ফেলে প্রথমে নাজেহাল করে এবং পরে অপরাধের ভিডিও ধারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়।
পরদিন পুলিশ সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে একাধিকবার তদন্তে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। এতে পুলিশের উপস্থিতিতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইমাম হোসেন জীবনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তবে গ্রেপ্তারকৃত ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা প্রশাসনের গাফিলতির সুযোগে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা প্রথমে ফোন কেটে দেয় এবং পরে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ভিন্ন খাতে ঘটনাকে প্রবাহিত করতে নানা কথাবার্তা বলে।
বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, “সাংবাদিকের ঘরের ভেতর ঢুকে যারা রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে, তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী ছাড়া কিছুই নয়। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে জোর অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিক সমাজ মনে করছে, এ ধরনের বর্বর হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তারা মূলত দেশ ও সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সচেষ্ট। প্রশাসনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও বিপদজনক করে তুলছে, বাড়াচ্ছে জনমনে ভয়-আতঙ্ক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল এই বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার এবং জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :