
নুরুল আফছার, স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৬২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সড়কে এই ভয়াবহ মৃত্যুর মিছিল থামাতে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কনফারেন্স রুমে ওয়ার্ল্ড ডে অব রিমেমব্রান্স ফর রোড ট্রাফিক ভিকটিমস উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল সংলাপ ও চট্টগ্রাম শহর রোড সেফটি রিপোর্ট ২০২১-২৩ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে চসিক, যেখানে সহযোগিতায় ছিল ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্রাটেজিস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সংস্থার একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে পুলিশ, বিআরটিএ ও সিডিএ-এর সমন্বিত পরিকল্পনা থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা আনা সহজ হবে।”
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসফিকুজ্জামান আক্তার বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।”
সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের অন্যতম কর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “সড়কে বিশৃঙ্খলা দূর করতে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, পথচারীদের জন্য জেব্রা ক্রসিং এবং আন্ডারপাস তৈরির মাধ্যমে সড়ক পারাপার নিরাপদ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি পরামর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বজুড়ে রোড ক্র্যাশের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। তাই বিআরটিএ ‘যানবাহনের গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪’ জারি করেছে। এই নির্দেশিকা বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামের সড়কগুলোকে নিরাপদ করা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রোড সেফটি রিপোর্ট ২০২১-২৩-এর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের সার্ভেইল্যান্স কোঅর্ডিনেটর কাজী সাইফুন নেওয়াজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী লাবিব তাজওয়ান উৎসব। উপস্থিত ছিলেন সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মাহবুব, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কীর্তিমান চাকমা, বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা, বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর কাজী হেলাল উদ্দিন, ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেটর সুতপা তাসনিম এবং কমিউনিকেশন অফিসার মাহমুদুল হাসান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন অপরিহার্য। অনুষ্ঠান থেকে দ্রুত নির্দেশিকা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :